রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০১০

স্বপ্ন

নেই জাত-কুল ধর্মের ভয়
বিভেদ সর্বনাশী
আমরা,
বাংলাদেশী।

মাগো-

তোমায় ভালোবাসি।

চিঠি-২

জান আমার,
আমার বুকের ভিতর এত কষ্ট হচ্ছে কেন বলতে পারো?মনে হচ্ছে বুকের উপর একটা বিশাল পাথর চাপা দিয়ে তুমি চলে গেলে অনেক দূরে।জানো, নিঃশ্বাস নিতেও যেন খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।

এতো কষ্টের মাঝে আরও বেশি ভয় হচ্ছে একটা ট্রাজেডীমূলক কাহিনী পড়ে। কাহিনীটা পড়ে আমার এত খারাপ লেগেছে যা আমি তোমাকে ভাষায় প্রকাশ করে বোঝাতে পারবো না। কাহিনীটা তোমাকে খুব শোনাতে মন চাইছে। কি শুনবে? কাহিনীটা হলো-


'একটি ছেলে আর একটি মেয়ে দুজন দুজনাকে এতো বেশী ভালোবাসতো যে পৃথিবীর অন্য সবকিছু তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হতো। আর তাদের এই ভালোবাসার মূল ভিত্তি ছিলো একে অপরের প্রতি গভীর বিশ্বাস। তাদের প্রেমে ছিলনা কোন নোংরামি।


তো একদিন ছেলেটি পড়াশোনার তাগিদে চলে যায় শহরে। মেয়েটির হাত ছুঁয়ে কথা দিয়ে যায় যে, মেয়েটি যেন তার জন্য অপেক্ষা করে; সে অবশ্যই ফিরে আসবে। মেয়েটি অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে।


আর এদিকে হলো কি জানো, ছেলেটি নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে সেই সরল, অবলা মেয়েটির কথা মনে রাখলেও সময়ের সাথে সাথে তার মনেরও পরিবর্তন হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেভুলে যায় সেই কথা দিয়ে আসা সরল মেয়েটিকে। যে কিনা শুধু তারই পথ চেয়ে বসে আছে।


ছেলেটি পড়াশোনা শেষ করে শহরেই বিয়ে করে বসবাস শুরু করে। তার আর ভুল করে হলেও মনে পড়েনা সেই মেয়েটির কথা। আর এদিকে সেই সরলা মেয়েটি তার বিশ্বাসের উপর আস্থা রেখেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে। কিন্তু, সে তো জানে না তার এই অপেক্ষার প্রহর কখনোই শেষ হবার নয়।'


কেন জানি মনে হচ্ছে আমার জীবনের সাথে কাহিনীটার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে শেষের অংশে চোখ পড়তেই যেন এক চাপা কান্নার নদী আমার হৃদয়টাকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলে যায় আপন পথে। তাই খুব ভয় হয় যদি কখনো আমার জীবনেও ঘটে এমনটি।


সরি, কাহিনীটা বলে তোমাকে হয়তো অনেক কষ্ট দিলাম। আমিতো তোমাকে শুধু কারনে অকারনে কষ্টই দেই। তবুও এই কষ্টের মাঝেই তুমি আমাকে সারাটি জীবন ভালোবাসবে কেমন? আবারো সরি, সেদিনের জন্য। জানি তোমার খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু কি করবো বলো, অ নেক চেষ্টা করেও চোখদুটোকে বোঝাতে পারলাম না।


চিঠি পেয়ে ফোন করবে আর নতুন ঠিকানা দিলে তখন উত্তর দিবে। বেশি করে লিখে রেখো কেমন? আমার সমস্ত মন-প্রাণ জুড়ে শুধুই বসবাস তোমার। তাই কখনো ভুলে যেওনা।


জানিনা তোমার সাথে আবার কবে দেখা হবে। তবে জানোতোমাকে আমি যেন সবসময়ই দেখতে পাই। এমন মনে হয়। তাই ভুলে জেতে চাইলেও তুমি পারবে না। কেননা তোমার হৃদয় জুড়ে যেন শুধু আমারই বসবাস।


ভালোবাসার প্রদীপ আমার, সোনাবন্ধু আমার, জীবন আমার ভালো থেকো সবসময়--


'জান তোমার'


বিঃদ্রঃ
আমার কথা এতো ভাববে না। কেননা আমিতো তোমারই আছি, আর থাকবো চিরকাল....

কাছে থাকার কষ্ট

কাছে থাকার কষ্ট বোঝ?
জানি, বোঝনা।
তোমার দুচোখ জুড়ে
সুখের পায়রার
উড়া-উড়ি।

আর; বোকা বাক্সটার বানানো কষ্ট

তোমার নির্বোধ চোখ বেয়ে ঝরে।
আমি-
শুধু এক চিলতে বিরহ খুঁজতে,
অফিস ফেরত তাস খেলায় পার করি মধ্যরাত
মাঝে মাঝে ট্যুরে যাই,
মুঠোফোনটা বন্ধ করে
পৈশাচিক আগ্রহে লক্ষ্য করি তোমাকে।

নির্বিকার তুমি ক্ষমা করে দাও অসীম ভালোবাসায়।


এই নিস্তরঙ্গ জীবনের

পাহাড় প্রমান ভালোবাসায়
চাপা পড়ে প্রাণ আমার ওষ্ঠাগত।
লেবু যেমন বেশী চিপলে তিতা লাগে
বেশী ভালোবাসাও এক সময়
তিতা লাগে।

চিঠি-১

বন্ধু,
হ্যাঁ আমিও বা তোমাকে কিভাবে বোঝাব যে, এই দীর্ঘ একটা মাস আমার কিভাবে কেটেছে। এক একটা দিন যেন মনে হয়েছে এক একটা বছর। প্রতিটি ক্ষনে প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়েছে শুধু তোমার কথা। সুযোগ পেলেই তোমার চিঠিগুলো বের করে পড়ে মনকে সান্তনা দিয়েছি। আর বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, প্রতিদিন একবার করে হলেও পিকনিকের ছবিগুলো বের করে দেখেছি।

জানো, যখনই কোন মোবাইলে রিং শুনেছি, তখনই ভেবেছি সেদিনের কথা ভুলে বুঝি তুমিই রিং করেছ। এইবুঝি মিজান ছুটে এসে বলবে তুমি রিং করেছ। কিন্তু না।


হ্যাঁ চিঠি আমি অবশ্যই পাঠাতে পারতাম। কিন্তু তুমি কি ভেবেছ আমি সেই চেষ্টা করিনি? তাছাড়া তুমিতো জানো আমার অসুবিধার কথা। আচ্ছা না হয় বুঝলাম সব দোষ আমার, কিন্তু তুমিও তো বলেছিলে শাহানার ঠিকানায় চিঠি দিবে। কিন্তু তা কোথায়? তুমি হয়তো জানোনা আমি কি পরিমান আশায় ছিলাম যে তুমি অবশ্যই শাহানার ঠিকানায় চিঠি দিবে।


তুমি হয়তো তোমার কষ্টগুলো শাওনের সাথে share করেছ কিন্তু একবার চিন্তা করো আমার কথা, আমার দিনগুলো কিভাবে কেটেছে। কার সাথে share করবো আমার কষ্টগুলো। এদিকে শাহানা ছিলোনা বাড়ি, ভাবো একবার।


কি রাগ, আব্বুকে বলবো পাত্র খুঁজতে তাই না? ঠিক আছে এত যখন রাগ দরকার হলে তাই করবো। ভালো থেকো। এই প্রত্যাশায় এবার বিদায়-


বুঝে নাও

কে?

বৃক্ষ আখ্যান

অনন্ত ঘৃণাভরে ছুটন্ত এক বৃক্ষকে
উপেক্ষা করি
সচেতনভাবে কামনা করি, আহ্বান করি
পতনকে।
পৃথিবীর সব মানুষের অভিশাপ নিয়ে
ছুড়ে দেই পত্রপানে।

চরম সত্য; মিথ্যা হলে

বাস্তবতাকেই অলীক মনে হয়
সরবে তাই প্রতিবাদ করি
ভেঙ্গেচুরে দেই ডাল,
টান দিয়ে উপড়ে আনি শিকড়।

সশব্দ পতনে হয় বোধদয়

সরে আসি ছায়াতল থেকে
নিঃসীম মরূপ্রান্তরের প্রখর রোদ
আমাকে করে তোলে বাস্তববাদী।

বহুদিন পর

শুনতে পাই, বৃক্ষ শেকড় গেড়েছে
আবার দিচ্ছে ছায়া চরাচরময়।
লোভ হয়, ছুটে যেতে চায়
এ মন-
কিন্তু
সযত্নে রচিত ব্যবধান
করে আমার অস্তিত্বকে অচেতন।

অবিশ্বাস

যতটা কাছের বলে ভাবি
ততটা কাছের নয় কেউ
মন য্যানো এক প্যারালাক্সের শিকার
চেতনার গভীর জুড়ে অচেনা ঢেউ।

সরে যাই দূরে

ফেলতে স্বস্তির শ্বাস
অকস্মাৎ রুদ্ধ হয়ে আসে কন্ঠস্বর
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো অবিশ্বাস!

সভ্য

কতটা যেতে হবে আর?
আর কতদূর গেলে বোঝা যাবে -
এই মুখোশগুলোই আসলে আমাদের অস্তিত্ব?

যখন ভাংচুরের শকওয়েভ-এ

নড়ে ওঠে স্বত্ত্বার ভিত্তিমূল,
তখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়-
আমরা সভ্য।

কোন জানোয়ার নই, কোন ইতর নই-

এমনকি কোন বিশ্বাসঘাতক নই,
আমরা অত্যন্ত সভ্য।

এই সভ্যতার মুখোশগুলি-

কবে,
কবে আমাদের সত্য চেহারা হবে?

হৃদয় ঘটিত কারণ

তোমার বাড়ীর গ্রীলে দাঁড়িয়ে দেখা যায় মেসখানি
তোমাকে দেখেছি গোছল শেষে ঝাড়ছো চুলের পানি।
কতোদিন আমি দেখেছি তোমায়, গ্রীলেতে হাত রেখে
আনমনে শুধু ভাবছো কি যেন, ছেঁড়া গেন্জিটা দেখে।
কতোদিন হলো শুধু চোখাচোখি, একটু মৃদু হাসা
প্রেমটা এবার হয়েই গেল, বুকভরা শুধু আশা।

রাত্রে সুযোগ উদয় হলো, ১৪ই ফেব্রুয়ারি-

ফুল দাঁতে নিয়ে, কার্নিস বেয়ে, সেকি কম ঝকমারি?
পরদিন দেখি গ্রীলে বাঁধা ফুল তেমনই রয়েছে হায়!
ব্যাথিত বেদনে, রিক্ত চেতনে, দাঁড়িয়ে রইলাম ঠাঁই।
ভাবলাম তুমি করলে কি ভুল আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে-
খেললে ছিনিমিনি দুহাতে তোমার,আমার হৃদয়টা নিয়ে।

থাকবোনা এই মেসেতে আমি থাকবোনা এই বাসাতে-

নতুন করিয়া খুঁজিয়া বেড়াই নতুন কোন পাড়াতে।

সে ও একাকীত্ব

তোমার স্বপ্নের পথে হেঁটে যাওয়া
এক চিলতে রোদ্দুর-
তোমার চোখের পেছনে ছায়া;
স্মৃতি কোন মধুর।

তোমার হৃদয় তন্ত্রীতে বাঁধা

অচেনা আপন সুর-
তোমার গল্প অল্প-স্বল্প
শুনে যে জন বিভূর।

তার নীহারিকা;ছায়াপথ জুড়ে

তোমার ছবি আঁকা-
তার হেঁটে যাওয়া আপন পথে
সে রয়ে যায় একা।

হবে কি আমার?

হবে কি আমার বিশাল আকাশ?
সারারাত শুয়ে গুনবো তোমার বুকে ছড়িয়ে থাকা তারাগুলো।
হবে কি আমার বাউলা বাতাস?
প্রখর তাপদাহে তোমাকে জড়িয়ে করবো শরীর শীতল।
হবে কি আমার আঁকা-বাঁকা মেঠো পথ?
পদচিহ্ন এঁকে তোমার শরীরময় হব শ্রান্ত।
হবে কি আমার তুমি?
অনন্ত দিবস যামী?

শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০১০

হাত ও কয়েকটি শব্দাবলী

এ হাত ছুঁয়েছে রূপার হাত
এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?

এ হাতে ছিলো অসংখ্য দুষ্টুমি

যখনি তা রূপার হাত ছুঁলো,
হাতটি হয়ে গেল
অদ্ভূত ভালোমানুষ।
মানুষে দেখেছে?
তো কি হয়েছে?
আরো দেখুক;জানুক-
রূপা,আমাকে ভালো নাইবা বাসলো
কিন্তু,এ হাত ছুঁয়েছে তাঁর হাত
আমার প্রেয়সীর নরম,কোমল,সিক্ত হাত-
এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?

আসলে, সেই প্রথম ধরেছিলো আমার হাতটি

তাঁর আঙ্গুলে ছিলো আমার পরিয়ে দেয়া আংটি।
সে ধরেছিলো-
ধরে থাকলো
ছাড়াতে গেলো, পারলোনা।
কারণ,
দুষ্টুমি তখন আর দুষ্টুমি নেই-
মনে তখন কম্পমান কল্পনা।
বললো,ছেড়ে দাও-
বললাম,ছাড়বোনা।
চুপ রইলো।
আমার অত্যন্ত কঠিন হাতের মাঝে
তাঁর ভঙ্গুর হাতখানি ঘেমে উঠলো।

ঐ মূহুর্তে, কেউ যদি বলতো-

তোমাকে রাজদন্ড দেয়া হবে!
আমি ছাড়তামনা তাঁর হাত।
কেউ যদি বলতো,
তোমাকে সহস্র প্রেয়শী দেয়া হবে,
আামি ছাড়তামনা তাঁর হাত।
কেউ যদি বলতো,
তোমাকে অগনিত টাকা দেয়া হবে-
আামি ছাড়তামনা
আমার একান্ত মানুষটির হাত।

(প্রথম লাইন দুটি শ্রদ্ধেয় সুনীল গাঙ্গুলীর "এ হাত ছুঁয়েছে নীরার হাত, এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?" -এর অনুকরণে লেখা)

শুক্রবার, ১৪ মে, ২০১০

এ কবিতার কোন শিরোনাম নেই

তুমি একটু সাবধানে থেকো
আকাশে আজ মেঘ করেছে,
ছোটাছুটি বেড়ে গেছে মুরগিগুলোর।
উঠোনে ডালের বড়ি শুকোতে দেয়া আছে
তুলে রেখো।
ল্যাংড়া আমগুলো পেকেছে
পেড়ে রেখো।
বাবু যেন পুকুরের ধারে না যায়,
মায়ের হাপানি বাড়লে
ডাক দিও হাসেম ডাক্তারকে।
আর,
চুলোটার দিকে খুব খেয়াল
পানি ঢুকলে টাকাগুলো নষ্ট হবে।

- তুমি কবে আসবে?
আমার যে বড়ো একা একা লাগবে!

- মেঘগুলো সরে গিয়ে যেদিন-
তেজস্বী রশ্মি এসে আলোকিত করবে উঠোন,
তোমার নিশ্চিন্ত ভাতঘুমে
ক্ষেতে নিড়ানি দেবো আমি,
মা পান চিবুতে চিবুতে
শুধু নানাবাড়ি আর বাপজানের গল্পে
পার করে দেবে সন্ধ্যারাত-
গলা ফাটিয়ে বেসুরে যেদিন
বাবু ইশকুলে বুক চিতিয়ে গাইবে
"আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি",
ঠিক সেদিন আমার ফেরার
সঠিক সময় হবে, বৌ!

এফ্রোডিজিয়াক

হাত বাড়িয়ে মনটাকে ছুঁই
মনের কাছে নত
মন কি বলো সুখটা ফেলে
হবে কষ্টাহত?

বুকের মাঝে একটুকু বিষ
ব্যথা শরীরময়
হৃদস্পন্দন থামবে তবু
প্রেমের স্বপ্ন নয়!

একটি কথা, দুটি কথা
কথার মালা গাঁথি
হঠাৎ করেই হারিয়ে গেলো
কথা মালার ঝাঁপি।

আকাশে তবু মেঘ ভেসে যায়
ওড়ে শঙ্খচিল-
স্বপ্নজুড়ে তোমার দেখা
ভীষণ রকম নীল।

সতী, সতীত্ব ও দ্বান্দিক ভাবনার আজাইরা পেচাল

মালয় থেকে চৈনিক দেশ , সব খানে তোর প্রিয়ে
বাঙাল মেয়েও ভাল্লাগে তোর করতে মজা নিয়ে
সবাই তোকে চায় বলে তুই মহান হয়েই থাকিস
যেদিন যাকে চাইলে পাবি তাহার দিকেই বাকিস
সবাইকে তোর আপন লাগে , প্রেমের এমন লীলা
এক জনকেও হারালে তোর শরীর পরাণ বিলা
বউটা কিন্তু অন্যরকম , এক্কেবারে ভিজে
বান্ধবীরাই বেশ্যা হলো, থাকলি সাধু নিজে !

কবিতাটা পড়েছিলাম অনেকদিন আগে। হেসে ফেলেছিলাম। আবার একটু ভাবলাম। নাহ! একেবারে সত্যি কথা।

একটা ব্লগ পড়লাম, নারীর সতিচ্ছদ নিয়ে। লেখক বলেছেন- "মেয়েদের সতীত্বের প্রধান এবং একমাত্র প্রমাণ হচ্ছে তার সতীচ্ছদ পর্দা। বিধাতার পরম ভালবাসায় সৃষ্ট মানব জাতিঃ পুরুষ এবং নারী। কিন্তু স্রষ্টার আজব খেলা, পুরুষের বিবাহ পূর্ব যৌণ মিলনের কোন চিহ্ন থাকে না। আর নারী, তার সতীত্ব হারানোর চিহ্ন রেখে যায় তার সতীচ্ছদ পর্দা হারানোর মাধ্যমে।"

মানলাম। কিন্তু, সতীত্বের সংজ্ঞা কি? আসেন দেখি-
Hymen: A thin membrane which completely or partially occludes the vaginal opening. The hymen is a fold of mucous membrane usually present at birth at the orifice of the vagina. It is also called the vaginal membrane (or, sometimes, the virginal membrane).
"Hymen" is a Greek word meaning "skin" or "membrane." The ancient Greeks applied the word to all kinds of membranes including, for example, the membrane that surrounds the heart (the pericardium). Starting in the 1500s the word was restricted to refer only to the vaginal membrane.

পুরুষের তো কোন ঐ পর্দা জাতীয় ব্যাপার স্যাপার নেই। তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে কি হবে??

যে নারী তার নিজের অনিচ্ছায় সংগমে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছে, তারও কি সতীত্ব নেই?? সতী শব্দটা বাংলায় আসলো কোথা থেকে? হিন্দু ধর্মের মহাভারত থেকে আমরা জানতে পারি যে, সীতাকে তার বাবা পেয়েছিলেন মাঠে লাঙল দিতে গিয়ে। লাঙলের ফলার যে দাগ, সেই দাগকে সীতা বলা হয়। সেই দাগের মাঝ থেকে প্রাপ্ত মেয়েকে নাম দেয়া হয় "সীতা"। তাঁকে যখন রাবন চুরি করে নিয়ে যায়, তখন রামের মনে সন্দেহ না থাকলেও উদ্ধারের পর প্রজাদের দাবিতে সীতা যে পবিত্র, তার পরীক্ষা দেয়া লাগে। অগ্নিপরীক্ষা নামেই সেটা খ্যাতো। তো সীতার সেই পরীক্ষাই প্রমাণ করেছিলো সে পবিত্র। সেই সীতা থেকেই বিবর্তিত হয়ে সতী শব্দটা বাংলায় যুক্ত হয়। এখনো নারীরা সতীর উদাহরণ হিসেবে সীতাকেই মানে। যে দীর্ঘ কয়েক বছর রাবনের সাহচর্যে থেকেও নিজেকে পবিত্র রাখতে সমর্থ হয়েছে।

তো, সতীত্ব আসলে কোথায়?? সীতার তো তখন বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো। স্বাভাবিক কারণেই হাইমেন থাকার কথা নয়। তাহলে কিভাবে এটা নিরুপন করা হলো?? এইখানেই মূলত আমার মতামত। হয়তো সবার কাছে গ্রহন যোগ্য হবেনা। আমি মনে করি সতীত্ব মানুষের মনে। একজন যদি কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেও, তারপরও যদি সে সেই মানুষ টিকে মনে স্থান না দিয়ে তার ভালোবাসার মানুষটিকেই স্থান দেয়, সেটিই সতীত্ব। তবে সেটা একসাথে দুইজন কে নয়। একটি মেয়েকে রেপ করা হয়েছে। সে কি অসতী?? না। আমি বলবো না। তার তথাকথিত হাইমেন না থাকতে পারে, কিন্তু সে সতী। মামারা, নিজের বুকে হাত দিয়ে বলেন তো আপনি সতী কিনা?? এ সমাজে পুরুষরাই বড়ো অসতী। আর একজন মেয়ে তার হাইমেন হারানোর দোষে হয়ে যায় কুলটা, সমাজছাড়া। শুধু মাত্র ঐ এক হাইমেনের কারণে পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে, ইরানে আজ "সম্মান রক্ষার জন্য হত্যা(!!)" আদৃত, সমাদৃত! হাজারে হাজারে নারীকে পচতে হচ্ছে জেলে। কয়জন পুরুষ এর ফল ভোগ করে?? কয়জন পুরুষকে মরতে হয় এই তথাকথিত কৌমার্য হারিয়ে?

আজকাল নয়া ব্যাবসা শুরু হয়েছে। নকল হাইমেন লাগানো। চীনে তো মাত্র ২৩ ইউরো দিয়ে কুমারিত্ব ফেরানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ওয়েবসাইটে। তবে তারা এক্ষেত্রে যে ইলাস্টিক ব্যবহার করে এবং তাতে যে রক্ত দেয়া থাকে তা ভুয়া। যখন তা একজন নারীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করা হয় তখন তিনি নানা রকম জটিলতায় ভুগতে পারেন। এই ভোগান্তি শুধু নারীদের। আর আমরা পুরুষরা?? গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াই একটা বেশ্যার চেয়েও জীবনে বেশী যৌনসংসর্গ করে!

ধিক এই সতী প্রথা, ধিক এই হাইমেন, ধিক এই সমাজ। আসুন শরীরে সতী না হয়ে মনে সতী হই।

রবিবার, ২১ মার্চ, ২০১০

তবুও চলে যাওয়া...

কপোতাক্ষ হয়ে যমুনার তীর ধরে
স্বপ্নের পাখি উড়ে আসে বুড়িগঙ্গার বুকে
তারপর ছুটে চলা শীতলক্ষার উপর দিয়ে
কপোত-কপোতীর আশ্লেষ চুম্বনে
মেঘনা, ডাকাতিয়ার বুকে জাগে ঢেউ...

নাফের শীতল বাতাসে ভাসে গাংচিল
ভেসে চলে আরো দুটি হৃদয়-
শুধালে, এগুলো কি পাখি?
এলবাট্রস নাকি, মনে ভাবি
ভাবি সেই বুড়োটির কথা, যার
ভাবনাগুলো একদা বিদ্ধ করতো বড়ো বেশী।

নারিকেলের মিষ্ট পানির মতোই
সুমিষ্ট রোদে হেঁটে চলা বীচে
কিংবা
ট্রলারে ছেঁড়া দ্বীপ, হেঁটে ফেরার কষ্ট জমিয়ে
রাতের সুখ আবাহনে বিদ্যুৎ বিহীন নিস্তব্ধতা!
সহসা বাতাস এসে উড়িয়ে নেয়, ফিরিয়ে দেয়
নষ্ট, ঘোলাটে আকাশের এই শহরের বুকে।
তবুও-
তবুও চলে যাওয়া হয় চোখ বুজলেই...

স্বপ্নমগ্ন আমার এ স্বাধীনতা।