রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০১০

স্বপ্ন

নেই জাত-কুল ধর্মের ভয়
বিভেদ সর্বনাশী
আমরা,
বাংলাদেশী।

মাগো-

তোমায় ভালোবাসি।

চিঠি-২

জান আমার,
আমার বুকের ভিতর এত কষ্ট হচ্ছে কেন বলতে পারো?মনে হচ্ছে বুকের উপর একটা বিশাল পাথর চাপা দিয়ে তুমি চলে গেলে অনেক দূরে।জানো, নিঃশ্বাস নিতেও যেন খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।

এতো কষ্টের মাঝে আরও বেশি ভয় হচ্ছে একটা ট্রাজেডীমূলক কাহিনী পড়ে। কাহিনীটা পড়ে আমার এত খারাপ লেগেছে যা আমি তোমাকে ভাষায় প্রকাশ করে বোঝাতে পারবো না। কাহিনীটা তোমাকে খুব শোনাতে মন চাইছে। কি শুনবে? কাহিনীটা হলো-


'একটি ছেলে আর একটি মেয়ে দুজন দুজনাকে এতো বেশী ভালোবাসতো যে পৃথিবীর অন্য সবকিছু তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হতো। আর তাদের এই ভালোবাসার মূল ভিত্তি ছিলো একে অপরের প্রতি গভীর বিশ্বাস। তাদের প্রেমে ছিলনা কোন নোংরামি।


তো একদিন ছেলেটি পড়াশোনার তাগিদে চলে যায় শহরে। মেয়েটির হাত ছুঁয়ে কথা দিয়ে যায় যে, মেয়েটি যেন তার জন্য অপেক্ষা করে; সে অবশ্যই ফিরে আসবে। মেয়েটি অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে।


আর এদিকে হলো কি জানো, ছেলেটি নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে সেই সরল, অবলা মেয়েটির কথা মনে রাখলেও সময়ের সাথে সাথে তার মনেরও পরিবর্তন হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেভুলে যায় সেই কথা দিয়ে আসা সরল মেয়েটিকে। যে কিনা শুধু তারই পথ চেয়ে বসে আছে।


ছেলেটি পড়াশোনা শেষ করে শহরেই বিয়ে করে বসবাস শুরু করে। তার আর ভুল করে হলেও মনে পড়েনা সেই মেয়েটির কথা। আর এদিকে সেই সরলা মেয়েটি তার বিশ্বাসের উপর আস্থা রেখেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে। কিন্তু, সে তো জানে না তার এই অপেক্ষার প্রহর কখনোই শেষ হবার নয়।'


কেন জানি মনে হচ্ছে আমার জীবনের সাথে কাহিনীটার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে শেষের অংশে চোখ পড়তেই যেন এক চাপা কান্নার নদী আমার হৃদয়টাকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলে যায় আপন পথে। তাই খুব ভয় হয় যদি কখনো আমার জীবনেও ঘটে এমনটি।


সরি, কাহিনীটা বলে তোমাকে হয়তো অনেক কষ্ট দিলাম। আমিতো তোমাকে শুধু কারনে অকারনে কষ্টই দেই। তবুও এই কষ্টের মাঝেই তুমি আমাকে সারাটি জীবন ভালোবাসবে কেমন? আবারো সরি, সেদিনের জন্য। জানি তোমার খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু কি করবো বলো, অ নেক চেষ্টা করেও চোখদুটোকে বোঝাতে পারলাম না।


চিঠি পেয়ে ফোন করবে আর নতুন ঠিকানা দিলে তখন উত্তর দিবে। বেশি করে লিখে রেখো কেমন? আমার সমস্ত মন-প্রাণ জুড়ে শুধুই বসবাস তোমার। তাই কখনো ভুলে যেওনা।


জানিনা তোমার সাথে আবার কবে দেখা হবে। তবে জানোতোমাকে আমি যেন সবসময়ই দেখতে পাই। এমন মনে হয়। তাই ভুলে জেতে চাইলেও তুমি পারবে না। কেননা তোমার হৃদয় জুড়ে যেন শুধু আমারই বসবাস।


ভালোবাসার প্রদীপ আমার, সোনাবন্ধু আমার, জীবন আমার ভালো থেকো সবসময়--


'জান তোমার'


বিঃদ্রঃ
আমার কথা এতো ভাববে না। কেননা আমিতো তোমারই আছি, আর থাকবো চিরকাল....

কাছে থাকার কষ্ট

কাছে থাকার কষ্ট বোঝ?
জানি, বোঝনা।
তোমার দুচোখ জুড়ে
সুখের পায়রার
উড়া-উড়ি।

আর; বোকা বাক্সটার বানানো কষ্ট

তোমার নির্বোধ চোখ বেয়ে ঝরে।
আমি-
শুধু এক চিলতে বিরহ খুঁজতে,
অফিস ফেরত তাস খেলায় পার করি মধ্যরাত
মাঝে মাঝে ট্যুরে যাই,
মুঠোফোনটা বন্ধ করে
পৈশাচিক আগ্রহে লক্ষ্য করি তোমাকে।

নির্বিকার তুমি ক্ষমা করে দাও অসীম ভালোবাসায়।


এই নিস্তরঙ্গ জীবনের

পাহাড় প্রমান ভালোবাসায়
চাপা পড়ে প্রাণ আমার ওষ্ঠাগত।
লেবু যেমন বেশী চিপলে তিতা লাগে
বেশী ভালোবাসাও এক সময়
তিতা লাগে।

চিঠি-১

বন্ধু,
হ্যাঁ আমিও বা তোমাকে কিভাবে বোঝাব যে, এই দীর্ঘ একটা মাস আমার কিভাবে কেটেছে। এক একটা দিন যেন মনে হয়েছে এক একটা বছর। প্রতিটি ক্ষনে প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়েছে শুধু তোমার কথা। সুযোগ পেলেই তোমার চিঠিগুলো বের করে পড়ে মনকে সান্তনা দিয়েছি। আর বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, প্রতিদিন একবার করে হলেও পিকনিকের ছবিগুলো বের করে দেখেছি।

জানো, যখনই কোন মোবাইলে রিং শুনেছি, তখনই ভেবেছি সেদিনের কথা ভুলে বুঝি তুমিই রিং করেছ। এইবুঝি মিজান ছুটে এসে বলবে তুমি রিং করেছ। কিন্তু না।


হ্যাঁ চিঠি আমি অবশ্যই পাঠাতে পারতাম। কিন্তু তুমি কি ভেবেছ আমি সেই চেষ্টা করিনি? তাছাড়া তুমিতো জানো আমার অসুবিধার কথা। আচ্ছা না হয় বুঝলাম সব দোষ আমার, কিন্তু তুমিও তো বলেছিলে শাহানার ঠিকানায় চিঠি দিবে। কিন্তু তা কোথায়? তুমি হয়তো জানোনা আমি কি পরিমান আশায় ছিলাম যে তুমি অবশ্যই শাহানার ঠিকানায় চিঠি দিবে।


তুমি হয়তো তোমার কষ্টগুলো শাওনের সাথে share করেছ কিন্তু একবার চিন্তা করো আমার কথা, আমার দিনগুলো কিভাবে কেটেছে। কার সাথে share করবো আমার কষ্টগুলো। এদিকে শাহানা ছিলোনা বাড়ি, ভাবো একবার।


কি রাগ, আব্বুকে বলবো পাত্র খুঁজতে তাই না? ঠিক আছে এত যখন রাগ দরকার হলে তাই করবো। ভালো থেকো। এই প্রত্যাশায় এবার বিদায়-


বুঝে নাও

কে?

বৃক্ষ আখ্যান

অনন্ত ঘৃণাভরে ছুটন্ত এক বৃক্ষকে
উপেক্ষা করি
সচেতনভাবে কামনা করি, আহ্বান করি
পতনকে।
পৃথিবীর সব মানুষের অভিশাপ নিয়ে
ছুড়ে দেই পত্রপানে।

চরম সত্য; মিথ্যা হলে

বাস্তবতাকেই অলীক মনে হয়
সরবে তাই প্রতিবাদ করি
ভেঙ্গেচুরে দেই ডাল,
টান দিয়ে উপড়ে আনি শিকড়।

সশব্দ পতনে হয় বোধদয়

সরে আসি ছায়াতল থেকে
নিঃসীম মরূপ্রান্তরের প্রখর রোদ
আমাকে করে তোলে বাস্তববাদী।

বহুদিন পর

শুনতে পাই, বৃক্ষ শেকড় গেড়েছে
আবার দিচ্ছে ছায়া চরাচরময়।
লোভ হয়, ছুটে যেতে চায়
এ মন-
কিন্তু
সযত্নে রচিত ব্যবধান
করে আমার অস্তিত্বকে অচেতন।

অবিশ্বাস

যতটা কাছের বলে ভাবি
ততটা কাছের নয় কেউ
মন য্যানো এক প্যারালাক্সের শিকার
চেতনার গভীর জুড়ে অচেনা ঢেউ।

সরে যাই দূরে

ফেলতে স্বস্তির শ্বাস
অকস্মাৎ রুদ্ধ হয়ে আসে কন্ঠস্বর
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো অবিশ্বাস!

সভ্য

কতটা যেতে হবে আর?
আর কতদূর গেলে বোঝা যাবে -
এই মুখোশগুলোই আসলে আমাদের অস্তিত্ব?

যখন ভাংচুরের শকওয়েভ-এ

নড়ে ওঠে স্বত্ত্বার ভিত্তিমূল,
তখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়-
আমরা সভ্য।

কোন জানোয়ার নই, কোন ইতর নই-

এমনকি কোন বিশ্বাসঘাতক নই,
আমরা অত্যন্ত সভ্য।

এই সভ্যতার মুখোশগুলি-

কবে,
কবে আমাদের সত্য চেহারা হবে?

হৃদয় ঘটিত কারণ

তোমার বাড়ীর গ্রীলে দাঁড়িয়ে দেখা যায় মেসখানি
তোমাকে দেখেছি গোছল শেষে ঝাড়ছো চুলের পানি।
কতোদিন আমি দেখেছি তোমায়, গ্রীলেতে হাত রেখে
আনমনে শুধু ভাবছো কি যেন, ছেঁড়া গেন্জিটা দেখে।
কতোদিন হলো শুধু চোখাচোখি, একটু মৃদু হাসা
প্রেমটা এবার হয়েই গেল, বুকভরা শুধু আশা।

রাত্রে সুযোগ উদয় হলো, ১৪ই ফেব্রুয়ারি-

ফুল দাঁতে নিয়ে, কার্নিস বেয়ে, সেকি কম ঝকমারি?
পরদিন দেখি গ্রীলে বাঁধা ফুল তেমনই রয়েছে হায়!
ব্যাথিত বেদনে, রিক্ত চেতনে, দাঁড়িয়ে রইলাম ঠাঁই।
ভাবলাম তুমি করলে কি ভুল আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে-
খেললে ছিনিমিনি দুহাতে তোমার,আমার হৃদয়টা নিয়ে।

থাকবোনা এই মেসেতে আমি থাকবোনা এই বাসাতে-

নতুন করিয়া খুঁজিয়া বেড়াই নতুন কোন পাড়াতে।

সে ও একাকীত্ব

তোমার স্বপ্নের পথে হেঁটে যাওয়া
এক চিলতে রোদ্দুর-
তোমার চোখের পেছনে ছায়া;
স্মৃতি কোন মধুর।

তোমার হৃদয় তন্ত্রীতে বাঁধা

অচেনা আপন সুর-
তোমার গল্প অল্প-স্বল্প
শুনে যে জন বিভূর।

তার নীহারিকা;ছায়াপথ জুড়ে

তোমার ছবি আঁকা-
তার হেঁটে যাওয়া আপন পথে
সে রয়ে যায় একা।

হবে কি আমার?

হবে কি আমার বিশাল আকাশ?
সারারাত শুয়ে গুনবো তোমার বুকে ছড়িয়ে থাকা তারাগুলো।
হবে কি আমার বাউলা বাতাস?
প্রখর তাপদাহে তোমাকে জড়িয়ে করবো শরীর শীতল।
হবে কি আমার আঁকা-বাঁকা মেঠো পথ?
পদচিহ্ন এঁকে তোমার শরীরময় হব শ্রান্ত।
হবে কি আমার তুমি?
অনন্ত দিবস যামী?

শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০১০

হাত ও কয়েকটি শব্দাবলী

এ হাত ছুঁয়েছে রূপার হাত
এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?

এ হাতে ছিলো অসংখ্য দুষ্টুমি

যখনি তা রূপার হাত ছুঁলো,
হাতটি হয়ে গেল
অদ্ভূত ভালোমানুষ।
মানুষে দেখেছে?
তো কি হয়েছে?
আরো দেখুক;জানুক-
রূপা,আমাকে ভালো নাইবা বাসলো
কিন্তু,এ হাত ছুঁয়েছে তাঁর হাত
আমার প্রেয়সীর নরম,কোমল,সিক্ত হাত-
এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?

আসলে, সেই প্রথম ধরেছিলো আমার হাতটি

তাঁর আঙ্গুলে ছিলো আমার পরিয়ে দেয়া আংটি।
সে ধরেছিলো-
ধরে থাকলো
ছাড়াতে গেলো, পারলোনা।
কারণ,
দুষ্টুমি তখন আর দুষ্টুমি নেই-
মনে তখন কম্পমান কল্পনা।
বললো,ছেড়ে দাও-
বললাম,ছাড়বোনা।
চুপ রইলো।
আমার অত্যন্ত কঠিন হাতের মাঝে
তাঁর ভঙ্গুর হাতখানি ঘেমে উঠলো।

ঐ মূহুর্তে, কেউ যদি বলতো-

তোমাকে রাজদন্ড দেয়া হবে!
আমি ছাড়তামনা তাঁর হাত।
কেউ যদি বলতো,
তোমাকে সহস্র প্রেয়শী দেয়া হবে,
আামি ছাড়তামনা তাঁর হাত।
কেউ যদি বলতো,
তোমাকে অগনিত টাকা দেয়া হবে-
আামি ছাড়তামনা
আমার একান্ত মানুষটির হাত।

(প্রথম লাইন দুটি শ্রদ্ধেয় সুনীল গাঙ্গুলীর "এ হাত ছুঁয়েছে নীরার হাত, এ হাতে আমি কি আর পাপ করতে পারি?" -এর অনুকরণে লেখা)